মুম্বইয়ের যুবককে চাকরির অফার রতন টাটার

SUDIPTA ROY Thursday, November 21, 2019 National

মুম্বইয়ের যুবককে সরাসরি ফোন করে চাকরির প্রস্তাব রতন টাটার

ভারতের টাটা গ্রুপের কর্নধার নিজে ফোন করে চাকরির প্রস্তাব দিলেন দিল্লের এক যুবককে। আর এই পুরো ঘটনাটি ফেসবুকের ‘ হিউম্যান অফ বম্বে’ পেজে পোস্ট করে জানালেন বছর ২৭-এর শান্তনু নাইডু। ২০১৪ সালে একদিন অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় একটি মৃত কুকুরকে পড়ে থাকতে দেখে শান্তনু। খুব সম্ববত কুকুরটি কোন গাড়ির তলায় চাপা পড়েছিল। এই ঘটনার পর মানসিকভাবে বেশ ভেঙে পড়েন শান্তনু। তার পরেই তিনি পথের কুকুরদের নিরাপত্তার দিকটির কথা ভেবে পথচারী কুকুরদের এক বিশেষ কলার পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এবিষয়ে তিনি তার বেশ কয়েকজন বন্ধুরও সাহায্য নেন। শহরের একটা অংশের কুকুরদের গলায় বেঁধে দেওয়া হয় সেই কলার। এই কলারগুলির বিশেষত্ব ছিল কোন আলো পড়লেই সেগুলি ঝলমল করে উঠত। ফলে গাড়িচালকদের বুঝতে সুবিধা হত ওই পথচারী কুকুরগুলির অস্তিত্ব। শান্তনুদের এই কাজ এতটাই সাড়া ফেলে যে তা প্রকাশিত হয় টাটা গ্রুপের নিউজ লেটারে। বিষয়টি জানাজানি হতেই বহু মানুষ তাঁদের নিজেদের কুকুরের জন্য এই বিশেষ কলার কিনতে চায় শান্তনুর থেকে। কিন্তু এত পরিমাণ কলারের জোগান দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় বাবার কথা মত রতন টাটাকে একটি চিঠি লেখান শান্তনু। এমনকি মাস দুয়েক পরে সেই চিঠির উত্তরও দেন রতন টাটা। রতন টাটার চিঠি পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই মুম্বইয়ে টাটার অফিসে রতন টাটার সাথে দেখা করেন শান্তনু। রতন টাটা যে তার কাজে খুব আপ্লুত হয়েছেন তা জানিয়ে নিজের ব্যক্তিগত কুকুরগুলিও শান্তনুকে দেখান। এইভাবেই রতন ও শান্তনুর মধ্যে গড়ে ওঠে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক। এমনকি পথ কুকুরদের জন্য শান্তনুর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তাঁকে বেশ কিছু আর্থিক সাহায্যও করে টাটা। এর পরেই আরও জোরকদমে শুরু হয় শান্তনুদের কাজ। ফেসবুকে এদিন শান্তনু যে পোস্টটি করেন তাতে তিনি জানান, এই ঘটনার পর ৫ বছর কেটে যায়। তার পর হঠাত একদিন তিনি একটি ফোন পান, তাঁকে বলা হয়, “আমার অফিসে প্রচুর কাজ রয়েছে। একজন সহকারী প্রয়োজন। আপনি কি আমার সহকারী হিসাবে কাজ করবেন?” ফোনের উল্টো দিক থেকে যে ব্যক্তি কথা বলছিলেন তিনি আর কেউ না, তিনি রতন টাটা। রতন টাটার মুখ থেকে এই ধরনের প্রস্তাবের কথা শুনে বেশ কয়েক সেকেন্ডের জন্য নির্বাক হয়ে যান শান্তনু। পরে এক কথাতেই তিনি রাজি হয়ে ‘হ্যাঁ’ উত্তর দেন। ইতিমধ্যেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে শান্তনুর এই পোস্টটি।

Related Post